প্রাচীনকালে বিড়াল পুরোপুরি বুনো একটা জন্তু হিসাবে পরিচিত ছিলো। সময়ের আবর্তনে এরা একসময় মানুষের পোষা প্রাণী হয়ে গেল। তাও প্রায় কয়েক হাজার বছর আগের কথা।
এরা এখন আমাদের ঘরে,বাইরে বা আশেপাশেই থাকে। একটা সময় ছিলো যখন প্রাচীন মিশরে বিড়ালকে দেবী হিসেবে ধরা হতো। মিশরীয়রা তাদের বিড়াল দেবীর নাম দিয়েছিলো নেফাদেত দেবী।
তাদের তখন রীতিমতো ধুমধাম করে পূজো দেয়া হতো। বিড়াল আমাদের আশেপাশে থাকলেও এদের সম্পর্কে আসলে আমরা সবকিছু জানি না। এই যেমন, বিড়াল কী করে ঘড়ঘড় শব্দ করে, এ প্রক্রিয়া মানুষ জেনেছে মাত্র কিছুদিন হলো।
পৃথিবীতে ছোট বড় যত বিড়াল আছে সব বিড়ালই ঘড়ঘড় শব্দ করতে পারে। তাহলে বিড়াল কী করে ঘড়ঘড় শব্দ করে? সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ধাঁধাঁর সমাধান করেছেন।
যখন কোন বিড়াল ঘড়ঘড় করে তখন বেশ একটা কাঁপুনি টের পাওয়া যায়। এই সময় বিড়ালের শরীরের যে কোন জায়গায় হাত দিলেই তা টের পাওয়া যায়। কাঁপুনির
জন্যেই কিন্তু বিড়ালের এই ঘড়ঘড়ানি বেশ রহস্যময় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
জন্যেই কিন্তু বিড়ালের এই ঘড়ঘড়ানি বেশ রহস্যময় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
ঘড়ঘড় শব্দটা বিড়ালের কোথায় তৈরি হয়? বুকে নাকি গলায়? এটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে অনেক রহস্যের দানা বেঁধেছিল। বিড়ালের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট্ট মাইক্রোফোন চেপে ধরে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এই শব্দ তৈরি হয় বিড়ালের গলায়।
ঠিক ল্যারিংস বরাবর। "Larynx" এর বাংলা হচ্ছে "স্বরযন্ত্র"। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে আরেকটা জিনিস বোঝা গেছে। তা হচ্ছে ঘড়ঘড় শব্দের বেশির ভাগই আসে মুখ এবং নাক দিয়ে।
যখন আমরা কথা বলি বা বিড়াল মিউ মিউ শব্দ করে, তখন স্বরযন্ত্রের মধ্যে পাতলা পর্দার মতো টিস্যুর কাঁপুনিতে তৈরি হয় শব্দ। এই পাতলা পর্দাগুলোকে বলা হয় ভোকাল কর্ড।
কথা বলার সময় আমরা বুক থেকে যে, বাতাস প্রেরণ করি তাতে ভোকাল কর্ড কাঁপে। কোন বাদ্যযন্ত্রের পর্দা বা তার কাঁপলে যেমন শব্দ তৈরি হয় এখানেও সেই একই বিষয়।
ভোকাল কর্ডের সাহায্যে বিড়াল মিউ মিউ করে। ঘড়ঘড় করার জন্যে আলাদা কিছু আছে কিনা বিজ্ঞানীরা তাই খুঁজছিলেন। সেরকম কিছু পাওয়া গেল না। তখন তারা ধারণা করলেন, বোধহয় বুকের কোন পেশীয় মাধ্যমে বিড়ালরা ঘড়ঘড় করে।
আরও একটি বিষয় আছে। বিড়ালের মিউমিউ এর যে তীক্ষ্মতা তার চেয়ে ঘড়ঘড়ানির তীক্ষ্মতা অনেক কম। বিড়ালের মিউমিউ এর সময় বা আমাদের কথা বলার সময় ভোকাল কর্ড প্রতি সেকেন্ডে দুইশ বার বা তারচেয়ে বেশি পরিমাণ কাঁপে।
কিছু ঘড়ঘড়ানির কম্পাংক প্রতি সেকেন্ডে মাত্র পঁচিশবার। মিউমিউ এর সময় শেষের দিকে তীক্ষ্মতা যেমন কমে ঘড়ঘড়ের সময় কিন্তু তা হয় না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তীক্ষ্মতা একই থাকে।
আরও মজার বিষয় হচ্ছে, বিড়াল এবং বনের বাঘের ঘড়ঘড়ানির তীক্ষ্মতা একই রকম। বিড়ালের ঘড়ঘড়ানির সময় এর স্বরযন্ত্রের কিছু পেশী বৈদ্যুতিক সিগনাল প্রেরণ করে।
তাতে দেখা যায় এরা প্রতি সেকেন্ডে পঁচিশ বার কাঁপে। বিড়ালের ঘড়ঘড়ানির মধ্যে শ্বাস ছাড়ার কোন কৌশল নেই। মূল কৌশল এর ভোকাল কর্ডে। এরা ঘড়ঘড়ানির সময় বাতাসকে একবারে বেরুতে দেয় না।
একটু একটু করে বের করে। ঘড়ঘড়ানির সময় বিড়ালের মস্তিষ্ক স্বরযন্ত্রের বিশেষ পেশীতে সিগনাল পাঠায়। তখন দু’পাশের ভোকাল কর্ড একসাথে ঢেউ এর মতো করে আটকে যায়। একে বলে পিঞ্চিং মেকানিজম।
এর পর আটকে যাওয়া ভোকাল কর্ড অল্প একটু খুলে অল্প একটু বাতাস বের হবার সিগনাল আসে ব্রেইন থেকে। ভোকাল কর্ড খোলে, বাতাস বের হয়। একে বলে রিলাক্সিং মেকানিজম। এই পিঞ্চিং এবং রিলাক্সিং মেকানিজম হয় প্রতি সেকেন্ডে পঁচিশবার।
Source : www.tnews247.com
Details URL : http://www.tnews247.com/interesting/article-10613.html